বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের রাতে বিদ্যুৎহীন ঘুটঘুটে অন্ধকারে একে একে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজনরা হাজির হন সাত প্রসূতি মাকে নিয়ে।
সোমবার রাতের প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তারা মোংলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন সরকারি এ হাসপাতালে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালেও ওই রাতে এক প্রকার ভুতুড়ে অবস্থা ছিল। রাতে হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা খবর দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন হোসেনকে।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসে বাকি সব চিকিৎসক ও নার্সদের খবর দিয়ে আনেন সেখানে। এরপর এক এক করে শুরু হয় প্রসূত মায়েদের সেবা। সোমবার ভোরেই ইলেকট্রিসিটি চলে যায় হাসপাতালের। কিন্তু রাতে চার্জার লাইট, মোবাইল টর্চ আর মোমবাতির আলো দিয়ে প্রসূতিদের সন্তান প্রসবের কাজ শুরু করেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইভস, আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী সবাই মিলেই। রাতেই একে একে সাত প্রসূতি মায়ের ডেলিভারি সম্পন্ন করেন তারা।
তারা হলেন, মোংলার মাকড়ঢোন এলাকার সোহাগ সরদারের স্ত্রী মুক্তা (১৯), সিগনাল টাওয়ার এলাকার জাকির হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা (৩৩), আরাজী মাকড়ঢোন এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী বনানী (১৯), মালগাজী এলাকার মানিক শেখের স্ত্রী মিলা (২৬), ভাসানী সড়কের আবুল হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪২), নারকেলতলার মজিবর হাওলাদারের স্ত্রী রাজিয়া (৩০) ও বাঁশতলা এলাকার মাছুমের স্ত্রী নাঈমা (২০)।